সিটি ব্যাংক লোন নিয়ে বিস্তারিত | City Bank Loan System

সিটি ব্যাংক বাংলাদেশের জনপ্রিয় ব্যাংকগুলোর মধ্যে একটি। তাদের লোন সিস্টেম সম্পর্কে জানতে ও লোন নিতে অনেকেই আগ্রহী। চলুন, সিটি ব্যাংক লোন নিয়ে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

সিটি ব্যাংক লোনের প্রকারভেদ

সিটি ব্যাংক বর্তমানে ৪ ধরণের লোন প্রদান করে থাকে। সেগুলো হলোঃ

  1. অটো লোন
  2. পার্সোনাল লোন
  3. হোম লোন
  4. সিটি বাইক লোন

বিভিন্ন ক্যাটাগরির গ্রাহকগণ সিটি ব্যাংক থেকে এই ৪ প্রকারের লোন বা ঋণ নিতে পারেন। একেক ধরণের লোনের জন্য একেক ধরণের রিকোয়ারমেন্ট রয়েছে। চলুন, জেনে নেওয়া যাক কোন ধরণের গ্রাহকগণ কোন প্রকারের লোন নিতে পারবেন।

সিটি ব্যাংক লোন

১। অটো লোন

নিচে দেওয়া রিকোয়ারমেন্টগুলো পূরণ করতে পারলেই খুব সহজেই সিটি ব্যাংক থেকে ৩ থেকে ৪০ লক্ষ টাকা অটো লোন নিতে পারবেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক কারা অটো লোন নিতে পারবেন ও কত টাকা নিতে পারবেন।

সিটি ব্যাংক অটো লোন ফিচার

সিটি ব্যাংক অটো লোনের ফিচার

  • সর্বনিম্ন ৩ লক্ষ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৪০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অটো লোন নেওয়া যাবে।
  • নির্দিষ্ট বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান থেকে যানবাহন কেনার জন্য লোন নিলে যানবাহনের মোট মূল্যের ৫০% লোন নেওয়া যাবে।
  • ক্যাশ সিকিউরিটির বিপরীতে ১০০% লোন নেওয়া যাবে।
  • ১২ থেকে ৭২ মাসের মধ্যে লোন নেওয়া অর্থ পরিশোধ করতে হবে।
  • কোনো লুকানো খরচ বা হিডেন চার্জ নেই।
  • প্রতিযোগিতামূলক সুদের হার।

এক্সেল শীটে অনুমোদিত যানবাহন বিক্রেতাদের তালিকা দেখুন

অটো লোন নেওয়ার যোগ্যতা

সিটি ব্যাংক থেকে অটো লোন নিতে হলে আপনার কিছু যোগ্যতা থাকতে হবে। যোগ্যতাগুলো তালিকা আকারে নিচে তুলে ধরা হলো।

  • ঋণ গ্রহীতার বয়স কমপক্ষে ২২ বছর ও সর্বোচ্চ ৬৫ বছর হতে হবে।
  • চাকুরিজীবিঃ কমপক্ষে ১ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
  • ব্যবসায়ীঃ একই ব্যবসায় কমপক্ষে ২ যুক্ত থাকতে হবে।
  • মাসিক আয় কমপক্ষে ৪০,০০০ টাকা হবে।
  • ব্যক্তিগত লোন গ্যারান্টির প্রয়োজনীয়তা নেই।
  • প্রতিযোগিতামূলক ইন্টারেস্ট রেট।

২। পার্সোনাল লোন

সিটি ব্যাংক অল্প আয়ের মানুষদের জন্য পার্সোনাল লোন নামক ঋণের প্যাকেজ নিয়ে এসেছে। যাদের মাসিক বেতন কমপক্ষে ২০,০০০ টাকা বা যিনি ৩০,০০০ টাকার জমির মালিক তিনি এই লোন নিতে পারবেন। আর ঋণ গ্রহীতার অবশ্যই বয়স ২২ থেকে ৬৫ বছর হতে হবে।

সিটি ব্যাংক পার্সোনাল লোনের ফিচার

পার্সোনাল লোন প্যাকেজে ১ লক্ষ টাকা থেকে শুরু করে ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ নেওয়া যাবে। এই প্যাকেজের ফিচার ও যোগ্যতা নিচে দেওয়া হলো।

পার্সোনাল লোনের ফিচার

  • লোনের পরিমাণ ১ লক্ষ থেকে ২০ লক্ষ টাকা
  • লোন পরিশোধের সময় ১২ থেকে ৬০ মাস।
  • কোনো হিডেন চার্জ বা লুকায়িত খরচ নেই।
  • কম্পিটিটিভ ইন্টারেস্ট রেট।

পার্সোনাল লোন পাওয়ার যোগ্যতা

অভিজ্ঞতাঃ

  • ঋণ গ্রহীতার বয়স কমপক্ষে ২২ বছর ও সর্বোচ্চ ৬৫ বছর হতে হবে।
  • কমপক্ষে ১ বছর বেতনভুক্ত নির্বাহী কর্মকতা হলে।
  • কমপক্ষে ২ বছরের পেশাজীবি হলে।
  • কমপক্ষে ৩ বছরের ব্যবসায়ী হলে।

মাসিক বেতনের সীমাঃ

  • নির্বাহী কর্মকতা হলে কমপক্ষে ২০,০০০ টাকা মাসিক বেতন হতে হবে।
  • জমির মালিক হলে মাসিক আয় ৩০,০০০ টাকা হতে হবে।
  • পেশাজীবি হলে মাসিক বেতন কমপক্ষে ৫০,০০০ টাকা হতে হবে।
  • ব্যবসায়ী হলে মাসিক বেতন কমপক্ষে ৫০,০০০ টাকা হতে হবে।

*শর্ত প্রযোজ্য (ব্যাংক কর্তৃপক্ষ থেকে জেনে নিন)

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

সিটি ব্যাংকের পার্সোনাল লোন নেওয়ার জন্য কিছু ডকুমেন্ট দরকার হবে। সেগুলো নিচে পিডিএফ আকারে দেওয়া হলো। ডাউনলোড করে দেখতে পারেন।

প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট এর তালিকা ডাউনলোড

৩। হোম লোন

৩য় লোন প্যাকেজটি হলো হোম লোন। হোম লোন হিসেবে ৫ লক্ষ টাকা থেকে ২ কোটি টাকা পর্যন্ত লোন নেওয়া যাবে। নিচে হোম লোনের ফিচার ও যোগ্যতা তুলে ধরা হলো।

সিটি ব্যাংক হোম লোন ফিচার

হোম লোনের ফিচার

  • লোনের পরিমাণ ৫ লক্ষ টাকা থেকে ২ কোটি টাকা।
  • ১ থেকে ২৫ বছরে ঋণ পরিশোধ করতে হবে।
  • সম্পত্তির মূল্যের ৭০% পর্যন্ত ঋণ নেওয়া যায়।
  • বাংলাদেশের নাগরিক নয় এমন ব্যক্তিও লোন নিতে পারেন।
  • Overdraft সুবিধা রয়েছে।
  • দ্রুত বন্দোবস্ত সুবিধা।
  • কোনো লুকায়িত খরচ বা হিডেন চার্জ নেই।
  • দেশের যেকোনো স্থান থেকেই লোন নেওয়া যাবে।

হোম লোন পাওয়ার যোগ্যতা

  • বয়সঃ ২২ থেকে ৬৫ বছর।
  • সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে ৩ বছরে অভিজ্ঞতা।
  • মাসিক বেতনঃ ৫০,০০০ টাকা বা তার বেশি।
  • সরকারি চাকরিজীবী হলে মাসিক বেতন ৩০,০০০ টাকা বা তার বেশি।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা ডাউনলোড করুন

৪। সিটি বাইক লোন

সিটি ব্যাংক লোন এর শেষ প্যাকেজ হলো সিটি বাইক লোনবাইক লোন হিসেবে সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টাকা ঋণ নেওয়া যাবে। বাইক লোনের ফিচার, যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, মাসিক আয় ইত্যাদি নিচে তুলে ধরা হলো।

সিটি বাইক লোনের ফিচার

সিটি বাইক লোন ফিচার

  • সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা।
  • বাইকের রেজিষ্ট্রেশন ফি সহ ৮০% ঋণ সুবিধা। মহিলাদের ক্ষেত্রে ১০০% ঋণ সুবিধা রয়েছে।
  • ঋণ পরিশোধের সময়কাল ৬ মাস থেকে ৩ বছর পর্যন্ত।
  • মহিলাদের জন্য স্পেশাল ইন্টারেস্ট ও কোনো প্রসেসিং ফি নেই।
  • ০% দ্রুত সেটেলম্যান্ট ফি।
  • একাধিক বাইক কেনার সুবিধা।
  • সিটি ব্যাংকের FDR এর উপর ৯০% লোন সুবিধা।

বাইক লোন পাওয়ার যোগ্যতা

২১ থেকে ৬৫ বছরের যেকোনো ব্যক্তি সিটি ব্যাংকের বাইক লোন নিতে পারবেন।

নূন্যতম অভিজ্ঞতা

  • কমপক্ষে ১ বছরের বেতনভূক্ত কর্মী।
  • ব্যবসায়ী, ফ্রিল্যান্সার ও চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে ১ বছর কাজের অভিজ্ঞতা।
  • রাইড শেয়ারিং সেবায় কাজ করলে ৬ মাসের অভিজ্ঞতা।
  • প্রবাসী হলে ৬ মাসের প্রবাস চাকরীর অভিজ্ঞতা।

ন্যূনতম মাসিক আয়

  • বেতনভুক্ত কর্মী (CBL staff): ১২,০০০ টাকা।
  • ব্যাংক একাউন্টে বেতন পাওয়া কর্মকর্তা: ১,৫০,০০০ টাকা।
  • ক্যাশে বেতন পাওয়া কর্মকর্তাঃ ২০,০০০ টাকা।
  • ব্যবসায়ী, পেশাজীবি, জমির মালিকঃ ২৫,০০০ টাকা।
  • রাইড শেয়ারিং কর্মীঃ ১৫,০০০ টাকা।
  • বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনকারী প্রবাসীঃ ২০,০০০ টাকা।

আরো পড়ুনঃ অগ্রণী ব্যাংক লোন সিস্টেম | Agrani Bank Loan

শেষ কথা

আমরা আর্টিকেলটি লেখার সময় সর্বশেষ তথ্যগুলো সংগ্রহ করে সিটি ব্যাংক লোন সম্পর্কে এই আর্টিকেলটি লিখেছি। এছাড়াও বিভিন্ন সময় আর্টিকেলগুলো আপডেট করা হয়। তবে তথ্যগুলো সময়ের সাথে পরিবর্তনশীল। তাই যেকোনো লোন নেওয়ার আগে ব্যাংক থেকে সর্বশেষ তথ্যটি জেনে নিন। আর এরকম সব ব্যাংকিং রিলেটেড তথ্য পেতে ব্যাংকিং হেল্পার এর সাথেই থাকুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top