ডাচ বাংলা ব্যাংক নেক্সাস কার্ডের সুবিধা ও পাওয়ার উপায়

বর্তমানে সকল ব্যাংক তাদের গ্রহকদের ডেবিট এবং ক্রেডিট কার্ড সরবরাহ করে। তন্মধ্যে ডাচ বাংলা ব্যাংক ডেবিট কার্ডের বাজারে শীর্ষস্থানীয়। এই কার্ডগুলো দেশব্যাপী সমস্ত ডাচ বাংলা ব্যাংকের এটিএম এবং পিওএস-এ কোন রকম ফি ছাড়াই টাকা উত্তোলনে ব্যবহার করা যায়। এছাড়াও একটি ডাচ বাংলা ব্যাংক নেক্সাস কার্ডের সুবিধা অনেক। 

বেশিরভাগ কার্ড ব্যবহারকারী যে অভিযোগ করে থাকে তা হলো হিডেন চার্জ। গ্রাহককে না জানিয়েই কিছু ব্যাংক কার্ডের জন্য বেশ কিছু চার্জ কেটে নেয়। যে কারণে অনেকেই বিরক্ত হয়। 

ডাচ বাংলা ব্যাংক নেক্সাস কার্ডের সুবিধা হল এতে কোন প্রকার হিডেন চার্জ নেই। এছাড়াও এই কার্ডের আরো বিভিন্নরকম সুবিধা রয়েছে। চলুন বিস্তারিত আলোচনা করা যাক।

ডাচ বাংলা ব্যাংক নেক্সাস কার্ডের সুবিধা
ডাচ বাংলা ব্যাংক নেক্সাস কার্ডের সুবিধা

ডাচ বাংলা ব্যাংক নেক্সাস কার্ডের সুবিধা কি কি?

অন্যান্য ব্যাংকগুলোর তুলনায় ডাচ বাংলা ব্যাংক নেক্সাস কার্ডের সুবিধা তুলনামূলক অনেক বেশি। একনজরে দেখে নিন সেসকল সুবিধাগুলো। 

  • ডাচ বাংলা ব্যাংক বেশিরভাগ নেক্সাস কার্ডগুলোর ক্ষেত্রে আপনাকে এক বছর কার্ড ফ্রি ব্যবহার করার সুযোগ দিয়ে থাকে। যা অন্যান্য ব্যাংক দেয় না।
  • ডাচ বাংলা ব্যাংকের রয়েছে দেশব্যাপী বিস্তৃত নেটওয়ার্ক এবং সবচেয়ে বেশি এটিএম বুথ। তাই আপনি যেখানেই থাকেন না কেন সহজেই টাকা উত্তোলন করতে পারবেন।
  • ভিসা এবং মাস্টারকার্ড সাপোর্টেড নেক্সাস কার্ডগুলো ব্যবহার করে ডাচ বাংলা ব্যাংক ছাড়া যে কোন ব্যাংকের এটিএম বুথ ব্যবহার করে টাকা উত্তোলন করা যায়। 
  • শপিং এর সময় টাকা সঙ্গে রাখা অনেক সময় বিব্রতকর হতে পারে। ডাচ বাংলা ব্যাংকের, নেক্সাস কার্ড সারাদেশে ব্যবহার করে পেমেন্ট করতে পারবেন। 
  • লাইনে দাড়িয়ে ট্রেনের টিকেট কেনার মত বিব্রতকর পরিস্থিতি আর কিছুই হতে পারেনা। আপনি খুব সহজেই ডাচ বাংলা ব্যাংক নেক্সাস কার্ড ব্যবহার করে অনলাইনে ট্রেনের টিকেট কিনে ফেলতে পারবেন।
  • বিভিন্ন ই-কমার্স সাইট থেকে কেনাকাটার প্রবণতা আমাদের দেশে খুব দ্রুতই বৃদ্ধি পাচ্ছে। আপনি দেশি সাইটগুলো থেকে পন্য ক্রয় করার জন্য আপনার নেক্সাস কার্ড দিয়ে পেমেন্ট দিতে পারবেন অনায়াসেই।
  • এবং ডাচ বাংলা ব্যাংক নেক্সাস ডেবিট কার্ডগুলোকে অত্যন্ত সিকিউরডভাবে তৈরি করা হয়, তাই এগুলো কপি হয়ে যাওয়ার কোন সম্ভাবনা থাকে না।

কিভাবে নেক্সাস কার্ড পাওয়া যায়?

অ্যাকাউন্টের ধরণের উপর ভিত্তি করে কয়েক ধরণের ডেবিট কার্ড পাওয়া যায়। সাধারণত ডাচ বাংলা ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খোলার সময় সমস্ত ক্লায়েন্ট ডাচ বাংলা ব্যাংক থেকে ডেবিট কার্ড পেয়ে থাকে। নীচে বিস্তারিত আলোচনা জেনে নিন। 

এজেন্ট ব্যাংকিং ডেবিট কার্ড

ডাচ বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংক এর মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খুললে আপনি একটি নেক্সাস ডেবিট কার্ড পেয়ে যাবেন। এই ধরণের অ্যাকাউন্টকে সাধারণত বায়োমেট্রিক অ্যাকাউন্টও বলা হয়ে থাকে, কারণ অ্যাকাউন্ট খোলার সময় আঙ্গুলের ছাঁপ দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলতে হয়। 

বিভিন্ন এজেন্ট পয়েন্ট থেকে আঙ্গুলের ছাঁপ দিয়ে এই ধরণের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা উত্তোলন করা যায়। পাশাপাশি আপনি চাইলে একটি ডেবিট কার্ডও নিতে পারবেন। কার্ডগুলো অ্যাকাউন্ট খোলার তারিখ থেকে শুরু করে পরবর্তী এক বছর কোন প্রকার চার্জ প্রদান করা ছাড়াই ব্যবহার করতে পারবেন। 

পরবর্তী বছর থেকে আপনাকে বাৎসরিক একটি চার্জ প্রদান করতে হবে। কার্ডের জন্য ভ্যাট সহ চার্জ আসে ২৩০ টাকা এবং এটিএম নেটওয়ার্কের চার্জ ভ্যাট সহ ১১৫ টাকা, সর্বমোট ৩৪৫ টকা প্রদান করতে হবে। এই চার্জ ব্যতিত আপনাকে অন্য কোন চার্জ দিতে হবে না। 

আরো পড়ুনঃ ইসলামী ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম

মনে রাখবেন, এই কার্ড শুধুমাত্র অ্যাকাউন্ট খোলার দিন থেকে প্রথম এক বছরের জন্য ফ্রী ব্যবহার করতে পারবেন। আপনি যদি প্রথম বছরে কার্ড না নেন তাহলে দ্বিতীয় বছরে নিলে আপনি এই ফ্রী সুবিধা পাবেন না।

ডাচ বাংলা ব্যাংক নেক্সাস ডিজিটাল ডেবিট কার্ড

এই ডেবিট কার্ডগুলো সাধারণত ব্রাঞ্চ ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টের জন্য প্রদান করা হয়। আপনি ডাচ বাংলা ব্যাংকের কোন শাখা থেকে সেভিংস অ্যাকাউন্ট, স্টুডেন্ট অ্যাকাউন্ট, স্যালারি অ্যাকাউন্ট বা কারেন্ট অ্যাকাউন্ট খুললে ডাচ বাংলা ব্যাংক নেক্সাস ডিজিটাল ডেবিট কার্ড পেয়ে যাবেন।

এই কার্ডগুলো শুধুমাত্র ডাচ বাংলা ব্যাংকের চ্যানেলগুলোতে ব্যবহার করা যায়। আপনি এই ব্যাংকের যে কোন এটিএম বুথ বা পিওএস-এ ব্যবহার করে টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। কার্ডগুলো অন্য কোন ব্যাংকের এটিএম বা পিওএস সাপোর্ট করে না। 

চার্জের ক্ষেত্রে এটিও এজেন্ট ব্যাংকিং কার্ডের অনুরূপ। অর্থাৎ প্রথম বছর ফ্রী ব্যবহার করতে পারবেন, পরবর্তী বছর থেকে বাৎসরিক চার্জ প্রদান করতে হবে। এই কার্ডের চার্জ ভ্যাট সহ ৪৬০ টাকা এবং এটিএম নেটওয়ার্কের চার্জ ভ্যাটসহ ২৩০ টাকা, মোট ৬৯০ টাকা অ্যাকাউন্ট থেকে চার্জ করা হয়। 

তবে স্টুডেন্ট অ্যাকাউন্টের জন্য ডাচ বাংলা ব্যাংক নেক্সাস কার্ড এর চার্জ আজীবণের জন্য ফ্রী। পাশাপাশি রয়েছে এক্সেল সেভিংস অ্যাকাউন্ট, যাকে অনেকে স্টুডেন্ট অ্যাকাউন্ট মনে করে। যদিও এটি স্টুডেন্ট অ্যাকাউন্ট নয়, এই ধরণের অ্যাকাউন্ট স্টুডেন্ট, হাউজওয়াইফ, বেকার বা খুব সীমিত আয়ের লোকজন খুলতে পারেন। এই অ্যাকাউন্টের বিপরীতে দেওয়া নেক্সাস কার্ডের জন্য ব্যাংক অর্ধেক চার্জ নিয়ে থাকে।

ডাচ বাংলা ব্যাংক নেক্সাস প্রো ডেবিট কার্ড

এই কার্ড ভিসা ও মাস্টারকার্ড দুই ধরণের হয়ে থাকে। ডাচ বাংলা ব্যাংকের কোর অ্যাকাউন্ট থেকে নেক্সাস ডিজিটাল ডেবিট কার্ড যেমন নেওয়া যায়, একই ভাবে এই ভিসা বা মাস্টারকার্ডও নেওয়া যায়। অন্যান্য নেক্সাস কার্ডগুলো যেমন প্রথম বছর কোন চার্জ কাটে না, ফ্রী ব্যবহার করা যায় এই কার্ড তেমন না। প্রথম বছর থেকেই আপনাকে চার্জ প্রদান করতে হবে। 

কার্ডের চার্জ ভ্যাটসহ ৮৬২.৫ টাকা এবং এটিএম নেটওয়ার্কের চার্জ ভ্যাটসহ ২৩০ টাকা। মোট ১০৯২.৫ টাকা বছরে একবার করে আপনাকে চার্জ প্রদান করতে হবে। এই কার্ডগুলো ডাচ বাংলা ব্যাংক সহ যে কোন ব্যাংকের ভিসা সাপোর্ট করে এমন এটি এম বুথে ব্যবহার করে টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। 

অনলাইনে পেমেন্ট দেওয়ার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ডিবিবিএল ভিসা পেমেন্ট গেটওয়ে থাকলে পেমেন্ট দিতে পারবেন, অন্যথায় নয়। এই ডেবিটকার্ডগুলো দিয়ে শুধুমাত্র বাংলাদেশি টাকায় পেমেন্ট দেওয়া যায়, ডলারে পেমেন্ট দেওয়ার কোন অপশন এখানে নেই।

ডাচ বাংলা ব্যাংক নেক্সাস ক্লাসিক ডেবিট কার্ড

এটি ডাচ বাংলা ব্যাংকের সম্ভবত সবচেয়ে সুবিধাজনক ডেবিট কার্ড। দেশব্যাপি ভিসা ও মাস্টারকার্ড সাপোর্ট করে এমন সমস্ত এটিএম বুথ ব্যবহার করে টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। দৈনিক ক্যাশ তোলার সীমা রয়েছে ৫০০০০ টাকা।

নেক্সাস ক্লাসিক ডেবিট কার্ড আপনি প্রথম বছর ফ্রী ব্যবহার করতে পারবেন, পরবর্তীতে প্রতি বছর 200 টাকা করে বাৎসরিক চার্জ প্রদান করতে হবে। 

এছাড়াও ডাচ বাংলা ব্যাংক নেক্সাস গোল্ড ও নেক্সাস সিলভার ডোবট কার্ডগুলোতে স্বয়ংক্রিয় ওভারড্রাফ্ট সুবিধা (ক্রেডিট) রয়েছে। ক্লায়েন্টরা তাদের অ্যাকাউন্টে অর্থ উত্তোলনের পাশাপাশি ক্রেডিট পরিমাণ অ্যাক্সেস করতে পারে। অর্থাৎ এই ডেবিট কার্ডকে ক্রেডিট কার্ডের মতো একইভাবে ব্যবহার করতে পারবেন। যখন ক্লায়েন্টরা এই বৈশিষ্ট্যটি ব্যবহার করে তখন একটি ছোট ঋণ জারি করা হয়।

শেষ কথা

টাকা লেনদেনের ক্ষেত্রকে সহজ করার জন্য আমাদের দেশে যে ব্যাংকগুলো অগ্রণী ভূমীকা রেখেছে তাদের মধ্যে ডাচ বাংলা ব্যাংক অন্যতম। ডেবিট কার্ড বা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার আমাদেরকে প্রায়শই করতে হয়। আপনি যদি নতুনভাবে একটি কার্ড ব্যবহার করতে চান তাহলে ডাচ বাংলা ব্যাংক নেক্সাস কার্ডের সুবিধা বিবেচনা করে এটিকেই চুড়ান্ত পছন্দের তালিকায় রাখতে পারেন। ধন্যবাদ।

Leave a Comment

Your email address will not be published.

ten − four =

Scroll to Top